টেলিমেডিসিন কি???
টেলিমেডিসিন হচ্ছে চিকিৎসক এবং সেবা দানকারী প্রতিষ্টান যে উলেকট্রনিক বা ডিজিটাল টেলিযোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করবে। টেলিমেডিসিন প্রযুক্তির স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী রোগীর গৃহে অথবা প্রত্যন্ত অঞ্চলে তাদের রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করার জন্য এটি সহজ করে তোলে। এই সিস্টেম যোগাযোগ প্রযুক্তি,তথ্য প্রযুক্তি,বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং চিকিৎসা বিঞ্জানের একটি সমন্বিত সফটওয়ার ব্যবহার করে চালিত ওয়েবসাইট বা টেলিমেডিসিন নামে অভিহিত বা পরিচিত।
প্রত্যন্ত এলাকার রোগীদের কষ্টসাধ্য দীর্ঘ সময় ব্যয় করে ভ্রমন করে যাওয়া ছাড়াই বিশেষঞ্জ ডাক্তাদরে থেকে পরামর্শ পেতে, বিশাল চিকিৎসা খরচ বাঁচাতে এবং অহেতুক হয়রানী(দালালী,অতিরিক্ত টেস্ট ইত্যাদী) থেকে বাঁচতে সাহায্য করে।
টেলিমেডিসিন কিভাবে কাজ করে??
টেলিমেডিসিন সেন্টার স্থাপন আপনি গ্রাম পর্যায় থেকেই রোগী এবং ডাঃ সরাসরি ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে সফটওয়ারের সাহায্যে দেশের যে কোন প্রান্তে প্রিন্টেড প্রেসক্রিপশন সংগ্রহ করে চিকিৎসা সেবা দিতে পারবেন।
টেলিমেডিসিন কি বৈধ? বৈধ হলে সরকারী কোন প্রতিষ্টান বৈধতা দিল?
হ্যাঁ টেলিমেডিসিন বৈধ। গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালী, ঢাকা-বাংলাদেশ কর্তৃক অনুমোদিত।
কিভাবে আয় করবেন??
আয় 2ভাবে করতে পারবেন।যখন আপনার টেলিমেডসিন সেন্টার পরিপূর্ন চালু হয়ে যাবে তখন এমন হতে পারে।
1। প্রেসক্রিপশন ফি থেকেঃ দরুন, রোগীর ফি 200/300 টাকা(কম বেশি হতে পারে) আপনি 25% হিসাবে পাবেন 50/75টাকা, এভাবে গড়ে 1দিনে 10জন রোগী হলে আপনি পাচ্ছেন 500/700 টাকা, মাসে 26দিন সেবা দিলে আপনি পাবেন 13000/19000 টাকা। রোগী বেশি হলে আরও বেশি পাবেন।
2। ঔষধ ব্যবসা থাকলেঃ আপনি ঔশধের ব্যবসা করলে তার পুরো লাভই আপনার হবে। প্রতিদিন আপনি কমপক্ষে 12% লাভে=5000টাকার ঔষধ বিক্রয় করলে রাভ পাবেন 600টাকা। মাসে 26দিনে 15000 টাকা। ধীরে ধীরে বিক্রয় বাড়লে আপনার লাভের পরিমানও বাড়বে।
পোস্ট ই-সেন্টারের উদ্যোক্তাগন কি নিতে পারবে??
যেহেতু একজন উদ্যোক্তা প্যারামেডিকেল সনদধারী না, সেহেতু তার পরিবারের বা বন্ধু বা পরিচিত কোন প্যারামেডিক্যাল সনদধারী র সাথে চুক্তিতে করতে পারবে। কারন উদ্যোক্তা সাপোর্ট
দিবে কম্পিউটার,প্রিন্টার,নেট,স্কিনার এবং জায়গা। আর সে দিবে প্যারামেডিক্যাল সাপোর্ট। 2জনের সম্মিলিত ভাবে এটা করা সম্ভব। সর্বপরি প্রচার করেত হবে।
রেজিঃ ফি কত??
সফটওয়্যার ফি,রেজিঃ ফি এবং বিবিধ সহ মিলিয়ে =25000/=টাকা মাত্র। তবে ক্যাম্পেইন চলাকালীন সময়ে প্রযোজ্য নয়।
তাই আসুন আমরা পোস্ট ই-সেনটার এর উদ্যোক্তাগন নিজের ইনকাম এবং গ্রাম জেনসাধারন এর মাঝে চিকিৎসা সেবা পৌছে দিতে পারি।
বিস্তারিত জানতেঃ DGHS ওয়েব সাইট থেকে জানতে পারবেন
দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৮টি হাসপাতালে উন্নত মানের টেলিমেডিসিন সেবা চালু আছে। শীগগীরই যুক্ত হচ্ছে আরও ১০টি হাসপাতাল এই সেবা চালুর ফলে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা আধূনিক মানের টেলিমেডিসিন পদ্ধতিতে বিশেষায়িত হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে পারছেন।এছাড়া প্রতিটি উপজেলা হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ ও ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ওয়েব ক্যামেরা প্রদান করা হয়েছে। ফলে নিম্ন পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রোগীদের জন্য উচ্চ পর্যায়ের হাসপাতালসমূহে কর্মরত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
কমিউনিটি ক্লিনিকে টেলিমেডিসিন সেবা চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে
ইতিমধ্যে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ওয়েব ক্যামেরাযুক্ত মিনি ল্যাপটপ কম্পিউটার সরবরাহ করা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে সাড়ে হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকে ল্যাপটপ সরবরাহ করা হয়েছে। গত জুন ২০১৩-তে আরও ১২,৪৭১টি ল্যাপটপ সংগ্রহের জন্য ক্রয়াদেশ প্রদান করা হয়েছে যা অক্টোবর ২০১৩ নাগাদ এসে পৌছাবে। ফলে দেশের সব ইউনিয়িন স্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ সবগুলো কমিউনিটি ক্লিনিকে ল্যাপটপ পৌঁছে দেয়া হবে। এসব মিনি ল্যাপটপে তারহীন ইন্টারনেট সংযোগ থাকছে।টেলিমেডিসিন সেবা প্রদানের কাজে ল্যাপটপগুলো ব্যবহার করা হবে। যেসব রোগীর চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার প্রয়োজন হবে, সেসব রোগীর জন্য ভিডিও কনফারেন্স চালু করে উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এর ফলে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসকের অভাব পূরণ করা যাবে।
ল্যাপটপগুলো গ্রামীন জনগণের স্বাস্থ্য শিক্ষার কাজেও ব্যবহার করা হবে। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সংক্রামক ব্যাধির প্রকোপ বেড়েছে। মাঝে মাঝে কিছু সংক্রামক ব্যাধি প্রাণ সংহারী মহামারী হিসেবে দেখা দেয়। তখন জনগণকে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরী সচেতনতামূলক তথ্য প্রদান করা অতি আবশ্যক হয়ে পড়ে। পাওয়ার পয়েন্ট, বক্তব্য, ভিডিও ক্লিপ এ ধরণের স্বাস্থ্য শিক্ষামূলক মেসেজ তৈরি করে তখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে বিতরণ করা যাবে এবং জনগণের সামনে প্রদর্শন করা যাবে। স্বাস্থ্য সম্মত জীবন যাপন, নিরাপদ পানি, সেনিটেশন, পুষ্টি ইত্যাদি সকল বিষয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক বিভিন্ন তথ্যও সহজেই বিতরণ হবে এই চ্যানেলে। গ্রামীন জনগণের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য ভান্ডারও আপডেট করা হবে এই ল্যাপটপগুলো দিয়ে।
ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্রে টেলিমেডিসিন সেবা দেয়া হচ্ছে
দেশের ২২টি ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্রেও টেলিমেডিসিন সেবা দেয়া হচ্ছে স্কাইপে ভিডিও কনফারেন্সিং ব্যবহার করে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস বিভাগে বসে চিকিৎসকগণ বিনামূল্যে প্রতি কর্ম দিবসে এই সেবা দিচ্ছেন।